টাংগাইলের করটিয়া সা’দত কলেজে পরীক্ষার্থী ভোগান্তি ।।  চলমান অনার্স ১ম বর্ষের পরীক্ষা ২০১৯

 

 

টাংগাইলের ঐতিহ্য বহনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করটিয়া সা’দত কলেজ। এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনের একটি কলেজ। অতীতে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখলেও বর্তমান পরিবেশ অনেকটাই ভিন্ন।

বর্তমান চলমান অনার্স ১ম বর্ষের পরীক্ষায়, শিক্ষার্থী ভোগান্তি এখানে চরমে উঠেছে। জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার মত গুরুত্তপূর্ণ পরীক্ষায় ও করটিয়া সা’দত কলেজ  কর্তৃপক্ষর হেয়ালিপনা শিক্ষার্থী এবং অভিবাবকদের চিন্তায় ফেলেছে।

টাংগাইলের করটিয়া সা’দত কলেজে পরীক্ষার্থী ভোগান্তি ।। চলমান অনার্স ১ম বর্ষের পরীক্ষায়

 

(পরীক্ষা শুরু হবার কিছু সময় পূর্বে তোলা ছবি। সকলে যার যার সিট এ বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে । দুজন ছেলের মধ্যখানে একটি মেয়ের সিট )

 

 

 

সরজমিনে পরিক্ষাকেন্দ্র ঘুরে যেসব অনিয়ম পাওয়া গেছেঃ

  • যে সিটে বড়জোর ৩ জন বসা যায়, সেখানে ৪ জন করে বসানো হয়েছে 
  • দুপাশেই ছেলে ,মাঝে মেয়ে এমন ভাবেও অনেক সিট ফেলা হয়েছে ( যেখানে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এক জন আরেকজনের সাথে অনেক বেশি চেপে চেপে  বসতে হচ্ছে )
  • চাপাচাপি করে ৪ জন বসায়, ছেলে মেয়ে পাশাপাশি সিট গুলোতে অনেক মেয়ে    যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে।
  • ৪ ঘণ্টা ব্যাপী এই পরীক্ষা আর ভয়াবহ আকার নিচ্ছে ,যখন বিদ্যুৎ সংযোক থাকছে না।

 

নাম প্রকাশে আগ্রহি নয় এমন একাধিক ছাত্রি জানিয়েছে , আমাদের বাধ্য হয়ে খুবই ভোগান্তিতে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে । কর্তৃপক্ষর দেখেও না দেখার ভান করছে আমাদের এই কষ্ট গুলি । প্রতিটা পরিক্ষাতেই অনেক মেয়ে যৌন হয়রানির শিকার হয়েও লজ্জায় কিছু বলছে না। ৪ ঘণ্টা অনিচ্ছা সত্ত্বেও ,ছেলেদের সাথে গা লাগিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে আমাদের। ভালভাবে বসে লেখার জন্য যতটুকু জায়গা প্রয়োজন ,তা আমরা পাচ্ছি না। ফলে সব প্রশ্নের উত্তর দেয়াও আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

টাংগাইলের করটিয়া সা’দত কলেজে পরীক্ষার্থী ভোগান্তি ।। চলমান অনার্স ১ম বর্ষের পরীক্ষায় (2)

এই অনিয়ম গুলো নিয়ে যেমন মেয়েদের মাঝে ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে ঠিক তেমন ভাবে সচেতন ছেলেরাও এই বিষয়গুলো নিয়ে অনেক বেশি ক্ষুব্ধ। জাতীয় পর্যায়ের পরিক্ষাতে , কলেজ কর্তৃপক্ষর এমন উদাসীনতা ছেলেরাও মানতে পারছে না।

 

অভিবাবকদের সাথে কথা বললে  তারা জানায়, আমরা আমাদের সন্তানদের সবসময় আগলে রাখি কিন্তু পরীক্ষা হলে এসে আমাদের সন্তানরা যৌন হয়রানির শিকার হবে এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। পরবর্তী সময় থেকে যেন, ছেলে মেয়ে আলাদা বসানো হয় এবং গাদাগাদি করে বসানো না হয় এ বিষয়ে তারা সচেতন মহলের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *